Freelance Jobs
সোমবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১১

ভাইরাসকে চিনুন!

ভাইরাস ! সময়ের আলোচিত বিষয়। আজকে আমরা পরিচিত এ ব্যাপারটির সাথে আরও পরিচিত হবো। ভাইরাসকে ভালভাবে চেনাটা খুবই জরুরি। বলতে পারেন কেন জরুরি? সে কারনে জরুরি যে কারনে আপনি বাস্তব জীবনে প্রতিপক্ষের বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত খোজখবর রাখেন। তাছাড়া ভাইরাসের বিভিন্ন ব্যাপারে জ্ঞান থাকলে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া যাবে সহজেই। বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন সামনের দিনগুলোতে সাইবার ক্রাইম ভয়ঙ্কর একটা ব্যাপারে পরিণত হতে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় মানব সভ্যতার জন্য অপেক্ষা করছে সাইবার যুদ্ধ। যার ময়দান হবে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব। আর হাতিয়ার হবে ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান ইত্যাদি। যে দেশ ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি) খাতে দক্ষ হবে সে দেশই থাকবে নিরাপদ। কোন একটি দেশে সাইবার আক্রমন চালানোর মাধ্যমে পঙ্গু করে দেয়া যায় সে দেশের অর্থনীতি। এসব এখন আর গোপন তথ্য নয়। সবারই কমবেশি জানা। পত্র-পত্রিকায় আমরা হাজারবার চেষ্টা করেও আমাদের দেশে দক্ষ সাইবার পুলিশ টিম গঠনের গুরুত্ব সম্বন্ধে সরকারের কর্মকর্তাদের বোঝাতে পারিনি। ব্যাপারটি ট্রাফিক জ্যাম বা বৈদ্যুতিক লোড-শেডিং জাতীয় সমস্যায় পরিনত হবার আগ পর্যন্ত চলতে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যাই হোক দুঃখের কথা বলতে না চাইলেও বলা হয়ে যায়। আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় ভাইরাস। সামগ্রিকভাবে আমরা ভাইরাস বলতে যাদের বুঝি তাদের একটি অংশের নাম ভাইরাস। বাকী গুলোর নাম ওয়ার্ম, ট্রোজান, স্পাই ইত্যাদি।
সার্ভার সাইড বা অ্যাপিস্নকেশন সাইড যে কোন দিক থেকে ভাইরাস তৈরী ও ব্যবহার করা সম্ভব। আধুনিক ভাইরাস নির্মাতারা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এ দুয়ের সংমিশ্রন ঘটাতেও ভূল করেন না। সার্ভার সাইড ভাইরাসগুলো তৈরীতে এ পর্যন্ত নির্মাতাদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা হল পি এইচ পি। এ ছাড়াও অনেকে জাভা, জাভাস্ক্রিপ্ট, অ্যাকশন স্ক্রিপ্ট (ফ্ল্যাশ) ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন। সার্ভারসাইড ভাইরাস-সমূহ মূলত ওয়েবসাইট আক্রান্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও অ্যাপিস্নকেশন ভাইরাস-সমূহকে বিভিন্নভাবে পরিবর্তন, সক্রিয়-নিষ্ক্রিয় ইত্যাদি করতে ব্যাবহৃত হয় সার্ভার সাইড ভাইরাস। অ্যাপিস্নকেশন সাইড ভাইরাস সমূহ মূলত সি, সি++ বা ভিজুয়াল বেসিক ব্যবহার করে তৈরী করা হয়। এগুলো বিভিন্ন ডকুমেন্ট বা বিভিন্ন ফরমেটের ফাইল এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে। ধরুন, আপনি একটি এম পি-ফোর ফরমেটের ভিডিও ডাউনলোড করলেন। ডাউনলোড শেষে ফাইলটি রান করলেই ভাইরাসটি সক্রিয় হবে। এ রকম ভাইরাস হলো অ্যাপিস্নকেশন সাইড ভাইরাস। এই প্রজাতির মধ্যে অনেক ভাইরাস রয়েছে যারা নিজেরাই নিজেদের কপি তৈরী করতে পারে। এদেরকে ওয়ার্ম বলা হয়। কিছু ওয়ার্ম কপিগুলোকে ছড়িয়ে দেয় পেনড্রাইভে ও পিসিতে সংযুক্ত থাকা অন্যান্য ডিভাইসে।
ভাইরাসের প্রকারভেদ আসুন জেনে নিই ভাইরাসের প্রকারভেদ সম্পর্কিত কিছু তথ্যঃ
ফাইল বা প্রোগ্রাম ভাইরাসঃ .com, .exe, .bin, .drv এবং .sys এক্সটেনশন বিশিষ্ট ভাইরাস
প্রোগ্রাম ভাইরাসের অন্তর্ভূক্ত। রান করার সময় এরা মেমোরীতে অনুপ্রবেশ করে এবং দায়িত্ব পালন শুরু করে। সানডে, ক্যাসকেড দুটি প্রোগ্রাম ভাইরাসের উদাহরন।
সিস্টেম ভাইরাসঃ এরা মূলত সি-ড্রাইভের সিস্টেম ৩২ ফাইল সমূহকে আক্রমন করে থাকে। সিস্টেম ৩২ হল অপারেটিং সিস্টেমের দুর্বলতম স্থান বা ফোল্ডার, ফলে এখান থেকে কোন ভাইরাস আক্রানত্দ ফাইলকে সরাসরি ডিলিট করাটা খুব বড় বোকামি। আর তাই যে কোন অ্যান্টিভাইরাস, সফটওয়্যার প্রথমে আক্রানত্দ ফাইলকে রিপেয়ার এর পদৰেপ নেয়। কিন্তু চোরা কি শোনে ধর্মের কাহিনী? রিপেয়ার করতে না পেরে পিসি এ্যাডমিনিষ্ট্রেটর এর অনুমতি নিয়ে কখনও কখনও ডিলিট করতে হয় ফাইলটি। পরিনামে ইউজারকে অপারেটিং সিস্টেম রি-ইনস্টল করার প্রয়োজন পড়ে মাঝে মাঝে।
বুট সেক্টর ভাইরাস বুট সেক্টর ভাইরাস সমূহ মূলত সেসব ফাইলকে আক্রান্ত করে যেগুলো অপারেটিং সিস্টেমের অংশ নয়। বরং পিসি বুট আপ এর সময় প্রত্যৰভাবে কাজ করে। এসকল ফাইল আক্রানত্দ করার মাধ্যমে একটি ভাইরাস চাইলে ইউজারকে অপারেটিং সিস্টেম রি-ইনস্টল করাতে বাধ্য করতে পারে। নির্মাতারা এসকল ভাইরাস ব্যাবহার করেন অন্য একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে। সেটা হল অধিকাংশ সময় এন্টিভাইরাস বুট সেক্টর স্ক্যান করেনা, যেহেতু এটি অপারেটিং সিস্টেমের অংশ নয় তাই। ফলে ভাইরাসটি দীর্ঘদিন জীবিত থাকতে পারে।
মাইক্রো ভাইরাস এসকল ভাইরাস মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল বা পিডিএফ ফরমেটের ফাইলকে আক্রান্ত করে। কনসেপ্ট, মেলিসা ওয়ার্ম ম্যাক্রো ভাইরাসের উদাহরন।
বহুমাত্রিক ভাইরাস এসকল ভাইরাস কোন বিশেষ ধরনের ফাইল ফরমেট এর জন্য ডিজাইন করা হয় না। তাই এগুলো খুব বিপদজনক। সামনে যাকে পাবে, তাকেই খাবে। স্ক্যান এর সময় এরা লুকিয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট ফাইল বা ড্রাইভ স্ক্র্যান এর সময় এরা অন্য ফাইল বা ড্রাইভ এ পলায়ন করে। ফলে এদের সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘোস্টবল, ফ্লিপ ইত্যাদি হল উদাহরন।
পলিমরফিক ভাইরাসঃ ধারনা করা হয় সবচেয়ে ভয়ংকর টাইপের ভাইরাস। এরা সেকেন্ডে লাখ লাখ
কপি তৈরী করে। শুধু তাই নয় কপিগুলোকে নতুন কোড/স্কিপ্ট বিশিষ্ট করে তৈরী করা হয়। ফলে সনাক্ত করতে ঝামেলা হয়ে যায়, এছাড়া কপিগুলো ও প্রত্যেকে প্রজননক্ষম। ফলে খুব দ্রম্নত পিসিতে কোটি কোটি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। হার্ডড্রাইভ এর স্পেস কমে যায়। কপি করতে গিয়ে পিসিকে সস্নো করে ফেলে। ভাইরাস সম্পর্কে জানলাম। হরেক ভাইরাসের হরেক রূপ। আরও কিছু ভাইরাস রয়েছে যাদের সম্পর্কে বেশি জানার প্রয়োজন নেই। এই ক্যাটাগরির মধ্যে কিছু পিরিয়ডিক ভাইরাস রয়েছে বছরের নিদির্ষ্ট সময়ে এরা হামলা করে। ভাইরাস তৈরী এবং তা ব্যাবহার করা একটি লাভজনক কাজ/ব্যাবসা।
এছাড়াও বিভিন্ন কারনে ভাইরাসের সৃষ্টি হয়। যেমনঃ অনেকেই অর্থ উপার্জনের জন্য ভাইরাস তৈরী করে থাকেন ।
কেউ নিজকে খেয়ালের বসে, কেউ অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলোকে পরাজিত করতে ও অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা বিশ্বসেরা প্রোগ্রামারদের পরাস্ত করতে, কোন নিদিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঘায়েল করতে বা কোন বিশেষ দেশ বা জাতি বা প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য প্রকাশ করতে ইত্যাদি।
সময়ে সময়ে ঘটে যাওয়া প্রলয়ংকারী কিছু ভাইরাসের আক্রমন আমাদেরকে এর ভয়াবহতার কথা স্বরন করিয়ে দেয়। জানি আমার জন্য নির্ধারিত জায়গা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তাই প্রতিবেদনকে আর প্রলম্বিত করতে চাইনা। খুব সংক্ষেপে ইতিহাসের ভয়াবহতার কয়েকটি ভাইরাসের ব্যাপারে কথাবর্তা বলে বিদায় নিচ্ছি।
মেলিসা ভাইরাসঃ এটি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড নির্ভর একটি ভাইরাস। এর আগমন ঘটে ১৯৯৯ সালে। অনেকে বলে থাকেন প্রতি ৫০টি পিসির একটি এর দ্বারা আক্রানত্দ ও ৰতির সম্মুখীন হয়। নির্মাতাকে ২০ মাসের জেল ও ৫,০০০ ডলার জরিমানা করা হয়। আই লাভ ইউ ভাইরাসঃ মূলত একটি ওয়ার্ম। নামের কারনে এই ভাইরাস বাহী মেইল সবাই ওপেন করেন এবং আক্রানত্দ হন। এটি নিজেকে কপি ও লুকিয়ে রাখতে পারতো। এটি পাসওয়ার্ড চুরি করে ডেভেলপারকে পাঠাতে পারতো। হিসেব মতে আই লাভ ইউ ভাইরাস ১০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমান ৰতি করেছিল। এটি ২০০০ সালে আক্রমন চালায়।
ক্লেজ ভাইরাসঃ পরবর্তী বছরই, মানে ২০০১ সালে এর আবির্ভাব, হয়। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এটি অ্যান্টি ভাইরাসকে ডিজেবল করে দিতে পারতো।
কোড রেড এবং কোড রেড ২ঃ একই বছর মানে ২০০১ সালে আবিভর্ূত হয়। এরা ব্যাকডোর তৈরী করতো। ফলে অ্যাডমিনিষ্ট্রেটর ৰমতা চলে যেত হ্যাকারের কাছে। তখন মাইক্রোসফট এর পৰ থেকে এর জন্য বিশেষ প্রতিকার মূলক সফটওয়্যার তৈরী ও বিনামূল্যে বিতরন করা হয়েছিল।
আশাকরি প্রতিবেদনটি পড়ার পর ভাইরাস সম্পর্কে আপনার একটি স্বচ্ছ ধারনার জন্ম হয়েছে। শত্রম্নকে ঘায়েল করতে সবার আগে শত্রম্নর ৰমতা বা স্বভাব সম্পর্কে জানতে হয়। তারপর জানতে হয় তার দুর্বলতা সম্পর্কে। আর একাজটি করতে ভূলে গিয়েছিলেন হিটলার। ফলে বেচারাকে পরাজিত হতে হয়েছিল। আপনাকে ভাইরাসের বিরম্নদ্ধে জাগ্রত করতে আজকের এই আয়োজন। অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের ব্যাপক ব্যাবহারের কারনে আগের মতো কোন বিশেষ ভাইরাস বেশি সংখ্যক পিসি আক্রানত্দ করতে পারেনা। এটি অবশ্যই ভাইরাস নির্মাতাদের জন্য কাল সংবাদ। সচেতন থাকুন, থাকুন ভাইরাস থেকে নিরাপদ।

0 comments:

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

^ উপরে চলে আসুন